রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
ত্রাণ চাইতে গিয়ে লাশ হলো তারা—গাজায় আর্তনাদ!
অনলাইন ডেস্ক
গাজা উপত্যকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। নির্বিচারে চালানো এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি। গণমাধ্যম জানিয়েছে, আলজাজিরা সূত্রে গাজা সরকারি মিডিয়া অফিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সরকারি মিডিয়া অফিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই স্বল্প সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী গাজাজুড়ে ২৬টি স্থানে পৃথক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, যাকে তারা স্পষ্টতই গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায়ই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ৫৮১ জন আহত হয়েছেন বলে জানায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
নিহতদের মধ্যে ৩৩ জন ছিলেন গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর বিতর্কিত ত্রাণকেন্দ্রে সহায়তার জন্য আসা ফিলিস্তিনি, যেটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের সমর্থনপুষ্ট একটি সংস্থা।
দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি আশ্রয়তাঁবুতে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন। একইভাবে গাজা শহরের পশ্চিমে মুস্তাফা হাফেজ স্কুলে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের ওপর চালানো বোমাবর্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
বাস্তুচ্যুত আহমেদ মনসুর বলেন, “ভোররাতে বিমান হামলার শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। কেউ বলল এটি ড্রোন হামলা, কিন্তু শব্দ এতই বিকট ছিল যে মনে হচ্ছিল আকাশ ভেঙে পড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিস্ফোরণের পর চারপাশে আগুন ছড়িয়ে দেয়। অনেকেই আগুনে পুড়ে চিৎকার করে মরছে, কেউ সাহায্য করতে আসেনি।”
সরকারি মিডিয়া অফিস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টার ধারাবাহিক আক্রমণগুলো পরিকল্পিতভাবে আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল, বাজার, বিশ্রামাগার ও খাদ্য সন্ধানে বের হওয়া নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বোমার লক্ষ্য করেছে ঘুমন্ত শিশু, ক্ষুধার্ত পরিবার, বাজারে খাবার খুঁজতে যাওয়া পুরুষ—যাদের কোনো রক্ষা নেই। এই হামলাগুলো ছিল মানবতা বিরোধী এবং নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত উদাহরণ।